বন্দরের ২ টি বার্থ মেকানাইজ করার উদ্যোগ, বাড়বে রাজস্ব দাবি বন্দরের হলদিয়া

0
105

হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ দুটি বার্থ যান্ত্রিকীকরণের পথে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্ট্যান্ডিং ফিনান্স কমিটি ( এস এফ সি) থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, দুটি বার্থ পিপিপি মডেলে কাজ করলে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। হলদিয়া বন্দরের ৯ এবং ১০ নম্বর বার্থ যান্ত্রিকীকরণ ( মেকানাইজড অপারেশন) লক্ষ্যে এগোচ্ছে বন্দর।
বন্দর সূত্রে খবর, সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯ নম্বর এবং ১০ নম্বর বার্থ কে ” ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এন্ড মেকানাইজেশন” করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইতিমধ্যেই দিল্লিতে স্ট্যান্ডিং ফিনান্স কমিটি ( এসএফসি) সাথে বৈঠক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২ টি বার্থ কে পিপিপি মডেলে পরিচালনা করার জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে এমনটাই দাবি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সূত্রে খবর, ৯ নম্বর এবং ১০ নম্বর বার্থ ডিবিএফওটি ( ডিজাইন, বিল্ড , ফিন্যান্স, অপারেট ট্রান্সফার) পদ্ধতির মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হবে। দুটি বার্থে পণ্য নিয়ে আসা এবং পণ্য পরিবহন পুরোটাই করতে হবে বেসরকারি সংস্থাকে। এর জন্য বেসরকারি সংস্থাকে প্রায় ৮৪ একর জমি দেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যান্ত্রিকীকরণ অর্থাৎ মেকানাইজড বার্থ করার জন্য বেসরকারি সংস্থা বিনিয়োগ করবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা । জাহাজ মন্ত্রকের তরফের চূড়ান্ত ছাড়পত্র এলেই দরপত্র আহ্বান করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তবে বন্দর আধিকারিকদের একাংশের দাবি, দুটি বার্থ যান্ত্রিকীকরণ করা হলে বন্দরের রোজগার বাড়বে। বর্তমানে ওই দুটি বার্থ বন্দর বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে ও এম (অপারেশন এবং মেনটেনেন্স) বার্থ পরিচালনা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন্দর আধিকারিক বলেন, দুটি বার্থে জাহাজ এলে পুরোপুরি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাহাজ থেকে পণ্য মালগাড়িতে অথবা ডাম্পারে বোঝাই হয়ে যাবে।। জাহাজ থেকে মোবাইল হারবার ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য হোপারে দেবে । হোপারের নিচে থাকবে কনভয়ের বেল্ট।
কনভয়ের বেল্টের মাধ্যমে পণ্য নির্দিষ্ট স্থানে ( সংস্থার শেডে)মজুদ করা হবে। আবার সরাসরি জাহাজ থেকে পণ্য কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ডাম্পার কিংবা মালগাড়িতে বোঝাই করা সম্ভব হবে।
সেই ক্ষেত্রে জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে নদীর পাড়ে মজুদ করা এবং সেই মজুত এলাকা থেকে রেক পয়েন্ট (মালগাড়ি বোঝাই কেন্দ্র) পর্যন্ত পন্য নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থাকবে না সংস্থার। পণ্য স্থানান্তর করতেও কোন খরচ হবে না সংস্থার। বেসরকারি সংস্থাকে ৩০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে। ৩৬ মাসের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাকে সম্পূর্ণ মেকানাইজ বার্থ তৈরি করতে হবে। বন্দরের সাথে বেসরকারি সংস্থার লভ্যাংশের অংশীদারিত্ব থাকবে। এছাড়াও বন্দরে জাহাজ এলে ভি আর সি ( ভেসেল রিলেটেড চার্জ ) অর্থাৎ বন্দরে পাইলট এর মাধ্যমে জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করানো এবং বন্দরের বাইরে বের করা এর জন্য ও টাকা পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে বন্দরের তরফে শর্ত হল বেসরকারি সংস্থাকে ন্যূনতম ৮ মিলিয়ন টন পন্য পরিবহন করতে হবে। বন্দরের পরিভাষায় এম জি টি ( মিনিমাম গ্যারান্টিড থ্রুপুট) । ৮ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন করতে না পারলে বেসরকারি সংস্থাকে এল ডি ( লিকুইডেটেড ড্যামেজ) দিতে বাধ্য থাকবে সংস্থা। বন্দর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ৯ এবং ১০ বার্থে বন্দর নিজস্ব প্রচেষ্টায় বছরে ৬.৫ মিলিয়ন টন পন্য পরিবহন করেছে। বন্দরের দাবি যে বেসরকারি সংস্থা দুটি বার্থের বরাত পাবে সেই সংস্থাকে বন্দরের তরফে ৬.৫ মিলিয়ন টন
পণ্য পাবেই । বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব নিয়ে ১.৫ মিলিয়ন টন পণ্য নিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের তরফে হলদিয়া বন্দরের ৫ এবং ২ নম্বর বার্থ একই পদ্ধতিতে বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। হলদিয়া বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার ( ইঞ্জিনিয়ারিং) মানস মন্ডল বলেন,” শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯ এবং ১০ নম্বর বার্থ মেকানাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত রিপোর্ট জাহাজ মন্ত্রকে পাঠানো হায়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here